বিচিত্র সাধ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতায় একটি স্কুলপড়ুয়া শিশু তার চারপাশের খেটে-খাওয়া মানুষের স্বাধীন, তাড়াহুড়োহীন জীবন দেখে মুগ্ধ হয়। পাঠশালায় যাওয়ার পথে সে দেখে চুড়ি-বিক্রির ফেরিওলাকে, বিকেলে দেখে বাগানের মালিকে, রাতে দেখে পাহারওলাকে — এদের কারও কোনো তাড়া নেই, কেউ বকে না, পরিষ্কার জামা পরার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই শিশুর মনে নানা রকম সাধ জাগে — সে চায় ফেরিওলা, মালি বা পাহারওলা হতে।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও কবিতার মূলভাব জানা।
- শিশুর তিনটি সাধ বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- শিশুমনের সরল কল্পনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ‘সহজপাঠ’, ‘শিশু’, ‘শিশু ভোলানাথ’, ‘ডাকঘর’ প্রভৃতি বহু রচনা ছোটোদের প্রিয়। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র (Song Offerings) জন্য তিনিই এশিয়ার প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁর রচনা। এই কবিতাটি তাঁর ‘শিশু’ বই থেকে নেওয়া।
কবিতার মূলভাব
স্কুলের নিয়ম-শৃঙ্খলায় বাঁধা শিশুটি চারপাশের খেটে-খাওয়া মানুষের স্বাধীন জীবন দেখে তাদের মতো হতে চায়। তাই তার মনে নানা রকম ‘বিচিত্র সাধ’ জাগে।
শিশুর তিন সাধ
(১) সকালে পাঠশালার পথে দেখা চুড়ি-বিক্রির ফেরিওলা — যে খুশিমতো পথে ঘোরে, যখন খুশি খায়; (২) বিকেলে বাগানে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানো মালি — যাকে কেউ বকে না, ধুলো লাগলেও বারণ নেই; (৩) রাতে গলিতে পাহারা-দেওয়া পাহারওলা — যে গভীর রাত পর্যন্ত আপন মনে জেগে থাকে। শিশুটি এদের প্রত্যেকের মতো হতে চায়।
কবিতার বার্তা
কবিতাটি শিশুমনের সরল কল্পনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তোলে — নিয়মে বাঁধা জীবনের বাইরে মুক্ত, তাড়াহুড়োহীন জীবনের প্রতি শিশুর সহজ টান।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- ফেরিওলা
- ঘুরে ঘুরে জিনিস বিক্রি করে যে; হকার।
- ফেরি
- ঘুরে ঘুরে জিনিস বিক্রি করা।
- সেলেট
- স্লেট, লেখার পাটি।
- কোদাল
- মাটি কোপানোর যন্ত্র।
- মালি
- বাগানের পরিচর্যাকারী।
- পাহারওলা
- প্রহরী, চৌকিদার।
- লন্ঠন
- আলো দেওয়ার বাতি, হারিকেন।
- পাগড়ি
- মাথায় বাঁধার কাপড়।
- সাধ
- ইচ্ছা।
- বিচিত্র
- নানা রকম, অদ্ভুত।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কবিতাটি কে লিখেছেন?
সমাধান: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন 2. কবিতাটি কোন বই থেকে নেওয়া?
সমাধান: ‘শিশু’।
প্রশ্ন 3. সকালে শিশুটি পথে কাকে দেখে?
সমাধান: ফেরিওলাকে।
প্রশ্ন 4. রাতে জানলা দিয়ে শিশুটি কাকে দেখে?
সমাধান: পাহারওলাকে।
প্রশ্ন 5. ‘সাধ’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: ইচ্ছা।
যে ভুলগুলো এড়াব
- তিনটি সাধ (ফেরিওলা, মালি, পাহারওলা) কোনটি কোন সময়ের তা গুলিয়ে ফেলা।
- ‘সেলেট’ শব্দের অর্থ ভুল করা (সেলেট মানে লেখার স্লেট)।
বিচিত্র সাধ — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘বিচিত্র সাধ’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবিতাটির রচয়িতা কে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কবিতাটি কোন বই থেকে নেওয়া?
‘শিশু’।
ফেরিওলা কী বিক্রি করে?
চুড়ি।
বড়ো প্রশ্ন
কবিতায় শিশুটির তিনটি সাধ কী কী, লেখো।
শিশুটি চায় — (১) চুড়ি-বিক্রির ফেরিওলা হতে, যে খুশিমতো পথে ঘোরে; (২) বাগানের মালি হতে, যাকে কেউ বকে না বা পরিষ্কার জামা পরায় না; (৩) রাতের পাহারওলা হতে, যে গভীর রাত পর্যন্ত আপন মনে জেগে থাকে। নিয়মে বাঁধা স্কুলজীবনের বাইরে এদের স্বাধীনতাই তার সাধ।
শিশুটির জীবনের সঙ্গে এই মানুষগুলির জীবনের অমিল কোথায়?
শিশুটিকে সময় মেনে স্কুলে যেতে হয়, পরিষ্কার জামা পরতে হয়, ভুল করলে বকুনি খেতে হয়। কিন্তু ফেরিওলা, মালি ও পাহারওলার কোনো বাঁধা সময় নেই, কেউ বকে না, ধুলো লাগলেও আপত্তি নেই — তাদের জীবন অনেক বেশি স্বাধীন।
একটু ভেবে
শিশুটির এই সাধগুলিকে ‘বিচিত্র সাধ’ বলা হয়েছে কেন বলে তোমার মনে হয়?
ফেরিওলা, মালি বা পাহারওলা হওয়ার ইচ্ছে সাধারণ শিশুর প্রতিদিনের ইচ্ছে নয় — তাই এগুলো একটু অদ্ভুত বা নানা রকম। আসলে এর পেছনে আছে নিয়মে বাঁধা জীবন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, তাই কবি একে ‘বিচিত্র সাধ’ বলেছেন।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১); কবিতাটি ‘শিশু’ বই থেকে নেওয়া।
- শিশুটি ফেরিওলা, মালি ও পাহারওলা হতে চায়।
- মূলভাব: শিশুমনের স্বাধীনতার নানা সাধ।
মনে রাখার কথা
- শিশুমনের সরল কল্পনা।
- মুক্ত, তাড়াহীন জীবনের প্রতি টান।
প্রশ্নোত্তর
কবিতায় শিশুটি ক-জনের মতো হতে চায়?
তিনজনের — ফেরিওলা, মালি ও পাহারওলা।