মালগাড়ি
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘মালগাড়ি’ কবিতায় কবি দ্রুতগামী তুফান বা মেল ট্রেন হতে চান না; তিনি চান শুধু একটি মালগাড়ি হতে — যে ঘটর ঘটর শব্দে দিনরাত নিজের খুশিমতো ধীরে চলে, ভাটার নদীর মতো, কোনো তাড়া নেই। প্যাসেঞ্জার বা মেল ট্রেন সময়সূচি মেনে, যাত্রী তুলে-নামিয়ে, দেরির ভয়ে ব্যস্ত থাকে; কিন্তু মালগাড়ির কোনো বাঁধা পথ-সময় নেই, সব রাস্তা তার জন্য খোলা। অন্যরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছোতে চায়, মালগাড়ির সুখ অশেষ চলার আনন্দে।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও কবিতার মূলভাব জানা।
- মালগাড়ির সঙ্গে অন্য ট্রেনের পার্থক্য বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- তাড়াহুড়োহীন স্বাধীন জীবনের আনন্দ অনুভব করা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৩–১৯৮৮) রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা গদ্য ও পদ্যে নতুন রীতির অন্যতম প্রবর্তক। তিনি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, নাটক ও অনুবাদে সমান দক্ষ ছিলেন। ‘কালিকলম’ পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘কল্লোল’ পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ‘সাগর থেকে ফেরা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। গোয়েন্দা চরিত্র ‘ঘনাদা’ তাঁর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।
কবিতার মূলভাব
কবি দ্রুতগামী তুফান বা মেল ট্রেন হতে চান না; তিনি চান একটি ধীরগামী, কাজের তাড়াহীন মালগাড়ি হতে — যে নিজের খুশিমতো, কোনো তাড়া ছাড়াই ভাটার নদীর মতো চলে।
মালগাড়ি বনাম অন্য ট্রেন
প্যাসেঞ্জার ও মেল ট্রেন সময়সূচি মেনে চলে, প্রতি স্টেশনে যাত্রী তোলে-নামায়, দেরি হওয়ার ভয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু মালগাড়ির কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই, সব পথ তার জন্য খোলা, যেখানে খুশি থামতে পারে।
কবিতার বার্তা
জীবনের আসল সুখ গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছোনোয় নয়, বরং তাড়াহুড়ো ছাড়া আপন আনন্দে পথ চলার মধ্যেই। মালগাড়ির সেই অশেষ চলার স্বাধীনতাই কবির কাম্য।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- মালগাড়ি
- পণ্যবাহী রেলগাড়ি।
- মেলট্রেন
- দ্রুতগামী রেলগাড়ি।
- লেট
- দেরি।
- পাছে
- নয়তো।
- টাইমটেবিল
- সময়সারণি।
- ঠিক-ঠিকানা
- অনির্দিষ্ট।
- হাঁসফাঁসিয়ে
- অস্থির হয়ে।
- অশেষ
- শেষ নেই যার।
- ভাটার নদী
- ভাটার সময় ধীরে বয়ে চলা নদী।
- বর
- ইচ্ছাপূরণের দান, আশীর্বাদ।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কবিতাটি কে লিখেছেন?
সমাধান: প্রেমেন্দ্র মিত্র।
প্রশ্ন 2. কবি কী হতে চান?
সমাধান: একটি মালগাড়ি।
প্রশ্ন 3. মালগাড়ির চলাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
সমাধান: ভাটার নদীর সঙ্গে।
প্রশ্ন 4. প্যাসেঞ্জার ট্রেন কীসের ভয়ে ব্যস্ত থাকে?
সমাধান: দেরি বা লেট হওয়ার ভয়ে।
প্রশ্ন 5. ‘অশেষ’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: শেষ নেই যার।
যে ভুলগুলো এড়াব
- কবি মালগাড়ি হতে চান, না কি দ্রুত ট্রেন হতে চান — তা গুলিয়ে ফেলা (তিনি মালগাড়ি হতে চান)।
- ‘পাছে’ শব্দের অর্থ ভুল করা (পাছে মানে নয়তো)।
মালগাড়ি — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘মালগাড়ি’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবিতাটির রচয়িতা কে?
প্রেমেন্দ্র মিত্র।
কবি কী হতে চান?
একটি মালগাড়ি।
‘অশেষ’ শব্দের অর্থ কী?
শেষ নেই যার।
বড়ো প্রশ্ন
মালগাড়ির সঙ্গে প্যাসেঞ্জার বা মেল ট্রেনের পার্থক্য লেখো।
প্যাসেঞ্জার ও মেল ট্রেন সময়সূচি মেনে চলে, প্রতি স্টেশনে যাত্রী তোলে-নামায়, আর দেরি হওয়ার ভয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। কিন্তু মালগাড়ির কোনো বাঁধা সময়সূচি নেই; সব পথ তার জন্য খোলা, যেখানে খুশি থামতে পারে এবং আপন আনন্দে ধীরে চলে।
কবি মালগাড়ি হতে চান কেন?
কারণ মালগাড়ির জীবনে কোনো তাড়া নেই, কোনো বাঁধা নিয়ম নেই। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছোনোর বদলে আপন খুশিতে, অশেষ আনন্দে পথ চলার স্বাধীনতাই কবিকে টানে।
একটু ভেবে
কবিতায় দ্রুতগামী ট্রেন আর মালগাড়ির তুলনার মধ্যে দিয়ে কবি জীবন সম্পর্কে কী বলতে চেয়েছেন বলে তোমার মনে হয়?
কবি বোঝাতে চেয়েছেন, সবসময় ছুটে গন্তব্যে পৌঁছোনোই সুখ নয়। কখনও কখনও তাড়াহুড়ো ছেড়ে আপন আনন্দে, নিজের মতো করে পথ চলার মধ্যেও জীবনের বড়ো সুখ লুকিয়ে থাকে।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৩–১৯৮৮); ‘ঘনাদা’ চরিত্রের স্রষ্টা।
- কবি দ্রুত ট্রেন নয়, তাড়াহীন মালগাড়ি হতে চান।
- মূলভাব: তাড়াহুড়োহীন স্বাধীন আনন্দে পথ চলা।
মনে রাখার কথা
- গন্তব্য নয়, পথ চলার আনন্দই বড়ো।
- স্বাধীনতা ও তাড়াহীন জীবনের মূল্য।
প্রশ্নোত্তর
প্রেমেন্দ্র মিত্রের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্রের নাম কী?
ঘনাদা।