বনের খবর
প্রমদারঞ্জন রায়ের ‘বনের খবর’ একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কাহিনি। জরিপের কাজে লেখক প্রায় ষাটজন লোক ও দুটি হাতি নিয়ে লুশাই পাহাড়ের ঘন, পথহীন, ভয়ংকর জঙ্গলে অভিযান চালান। লুশাই কুলিরা বন কেটে পথ তৈরি করত, তবু দিনে চার-পাঁচ মাইলের বেশি এগোনো যেত না। সেই গভীর জঙ্গলে গন্ডার, বাঘ, হাতি ও বুনো মোষের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর ও বিপজ্জনক অভিজ্ঞতার কথা কাহিনিতে ফুটে উঠেছে।
শেখার লক্ষ্য
- লেখক ও কাহিনির পটভূমি জানা।
- জঙ্গল-অভিযানের রোমাঞ্চ ও বিপদ বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুভব করা।
মূল ধারণা
লেখক পরিচিতি
প্রমদারঞ্জন রায় (১৮৭৪–১৯৪৯) ময়মনসিংহের মসুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঠ অসম্পূর্ণ রেখেই ভারতীয় জরিপ বিভাগের পরীক্ষায় প্রথম হয়ে অফিসার পদে চাকরি পান। কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ভারত, বর্মা ও শ্যামদেশের ঘন জঙ্গলে ঘুরেছেন। তিনি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ছোটো ভাই এবং লেখিকা লীলা মজুমদারের বাবা। ‘বনের খবর’ বইয়ে তাঁর চাকরি-জীবনের অভিজ্ঞতা ধরা আছে।
অভিযানের পটভূমি
লুশাই পাহাড়ের সাড়ে-ছশো থেকে সাতশো বর্গমাইল এলাকায় কোনো গ্রাম বা পথ ছিল না। লেখক প্রায় ষাটজন লোক, জিনিসপত্র ও দুটি হাতি নিয়ে চলতেন; লুশাই কুলিরা বন কেটে পথ তৈরি করত, তবু দিনে চার-পাঁচ মাইলের বেশি এগোনো যেত না।
বনের রোমাঞ্চ ও বিপদ
ঘন জঙ্গলে দিনের বেলাতেও সূর্য দেখা যেত না। চারদিকে গন্ডার, বাঘ, হাতি, হরিণ ও বুনো মোষের তাজা পায়ের দাগ। লেখক একবার গন্ডারের, একবার বুনো হাতির পালের মুখোমুখি হন। রাতে লুশাইরা বাঁশের মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়াত।
কাহিনির বার্তা
এটি একজন সাহসী অভিযাত্রীর জঙ্গল-অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চকর ছবি। জেনে রাখা ভালো — ১৯৭২ সালে ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন তৈরি হওয়ায় এখন যেকোনো রকম পশুশিকার আইনত নিষিদ্ধ।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- বর্গমাইল
- এলাকার ক্ষেত্রফল মাপার একটি একক।
- খোরাক
- খাদ্যদ্রব্য।
- মেহনত
- পরিশ্রম।
- হুল্লুমান
- ‘হনুমান’ শব্দের রূপভেদ।
- পাঞ্জা
- পাঁচ আঙুলসমেত করতল।
- ধুনি
- অগ্নিকুণ্ড।
- খটকা
- সন্দেহ, সংশয়।
- জরিপ
- জমি বা এলাকা মেপে মানচিত্র তৈরির কাজ।
- কুলি
- ভারবাহক শ্রমিক।
- দা
- গাছ কাটার ধারালো অস্ত্র।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. ‘বনের খবর’ কার লেখা?
সমাধান: প্রমদারঞ্জন রায়।
প্রশ্ন 2. অভিযানটি কোন পাহাড়ে হয়েছিল?
সমাধান: লুশাই পাহাড়ে।
প্রশ্ন 3. লেখক চাকরি সূত্রে কোন কোন দেশে ঘুরেছেন?
সমাধান: ভারত, বর্মা ও শ্যামদেশ।
প্রশ্ন 4. লীলা মজুমদার লেখকের কে ছিলেন?
সমাধান: কন্যা।
প্রশ্ন 5. ‘ধুনি’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: অগ্নিকুণ্ড।
যে ভুলগুলো এড়াব
- প্রমদারঞ্জন রায়ের সঙ্গে উপেন্দ্রকিশোর বা লীলা মজুমদারের সম্পর্ক গুলিয়ে ফেলা।
- ‘মেহনত’ শব্দের অর্থ ভুল করা (মেহনত মানে পরিশ্রম)।
বনের খবর — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘বনের খবর’ কার লেখা?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
‘বনের খবর’ কার লেখা?
প্রমদারঞ্জন রায়।
অভিযানটি কোন পাহাড়ে হয়েছিল?
লুশাই পাহাড়ে।
‘খটকা’ শব্দের অর্থ কী?
সন্দেহ, সংশয়।
বড়ো প্রশ্ন
লুশাই পাহাড়ের জঙ্গলে অভিযান কতটা কঠিন ছিল, লেখো।
সাড়ে-ছশো থেকে সাতশো বর্গমাইল এলাকায় কোনো গ্রাম বা পথ ছিল না। লুশাই কুলিরা বন কেটে পথ তৈরি করত, তবু দিনে চার-পাঁচ মাইলের বেশি এগোনো যেত না। দিনের বেলাতেও সূর্য দেখা যেত না, চারদিকে গন্ডার-বাঘ-হাতির বিপদ, আর রাতে পাহারা দিতে হতো — সব মিলিয়ে অভিযানটি ছিল খুবই কঠিন ও বিপজ্জনক।
এই কাহিনি থেকে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে আমরা কী শিখি?
কাহিনিতে জঙ্গলের নানা বন্যপ্রাণীর কথা আছে। জানা যায়, একসময় নানা প্রয়োজনে পশুশিকার করতে হতো, কিন্তু ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন তৈরি হওয়ার পর এখন পশুশিকার আইনত নিষিদ্ধ। তাই বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।
একটু ভেবে
এত বিপদ সত্ত্বেও লেখক জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে গিয়েছিলেন কেন বলে তোমার মনে হয়?
জরিপের কাজ ছিল তাঁর দায়িত্ব ও জীবিকা। পাশাপাশি অজানা জঙ্গলকে চেনা ও নতুন কিছু আবিষ্কারের রোমাঞ্চও তাঁকে টানত। দায়িত্ববোধ ও সাহস — এই দুইয়ের জোরেই তিনি বিপদ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতেন।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- লেখক: প্রমদারঞ্জন রায় (১৮৭৪–১৯৪৯), উপেন্দ্রকিশোরের ভাই ও লীলা মজুমদারের বাবা।
- লুশাই পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে জরিপ-অভিযানের রোমাঞ্চকর কাহিনি।
- মূলভাব: সাহসী অভিযাত্রীর জঙ্গল-অভিজ্ঞতা।
মনে রাখার কথা
- সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয়।
- বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব।
প্রশ্নোত্তর
‘বনের খবর’ কি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা?
হ্যাঁ, এটি লেখকের নিজের চাকরি-জীবনের অভিজ্ঞতার কথা।