আমাজনের জঙ্গলে
অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর ‘আমাজনের জঙ্গলে’ কাহিনিতে কলকাতা থেকে আসা এক বাঙালি ছেলে আমাজনের গভীর জঙ্গলে স্থানীয় বন্ধু উবার সঙ্গে থাকে। নৌকো-উৎসবের রাতে সে আমাজন নদীতে গোলাপি ‘বোতো’ (নদীর ডলফিন) দেখে, যাকে স্থানীয় মানুষ আমাজনের রক্ষাকর্তা-দেবতা মনে করে। ঘরছাড়া ছেলেটি মনে মনে বোতোর কাছে মা-বাবা ও বন্ধুদের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রার্থনা করে। ভাষা না জেনেও ছবি এঁকে দুজনের ভাব বিনিময় হয়; উবা প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন শহরজীবনের কথা শুনে অবাক হয়ে ছেলেটিকে জঙ্গলেই থেকে যেতে বলে।
শেখার লক্ষ্য
- লেখক ও কাহিনির পটভূমি জানা।
- ‘বোতো’ ও আমাজন অঞ্চলের বিশ্বাস বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- প্রকৃতি, বন্ধুত্ব ও ঘরে ফেরার টান অনুভব করা।
মূল ধারণা
লেখক পরিচিতি
অমরেন্দ্র চক্রবর্তী (জন্ম ১৯৪১) একজন কবি, পর্যটক, পত্রিকা সম্পাদক, আলোকচিত্রী, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক। তিনি পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ‘শাদা ঘোড়া’, ‘আমাজনের জঙ্গলে’, ‘হীরু ডাকাত’, ‘গৌর যাযাবর’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই।
কাহিনির পটভূমি
কলকাতার এক বাঙালি ছেলে আমাজনের জঙ্গলে এসে পড়েছে, তার সঙ্গী স্থানীয় ছেলে উবা। নৌকো-উৎসবের রাতে বিশাল চাঁদের আলোয়, বিশাল নদীর বুকে এক অদ্ভুত স্তব্ধতার মধ্যে কাহিনিটি শুরু হয়।
বোতো-দর্শন
উবা ফিসফিস করে ‘বোতো!’ বলে নদীর জলে এক গোলাপি, লম্বা ঠোঁটওলা প্রাণী দেখায়। স্থানীয় বিশ্বাস — বোতো আমাজনের রক্ষাকর্তা, জলের নিচে রঙিন পাথরের তার বিরাট প্রাসাদ। ঘরছাড়া ছেলেটি মনে মনে বোতোর কাছে মা-বাবা ও বন্ধুদের কাছে ফিরে যাওয়ার উপায় চায়।
উবার সঙ্গে ভাব বিনিময়
ভাষা না জেনেও উবা ও ছেলেটি কাঠকুটো দিয়ে মাটিতে ছবি এঁকে নিজেদের জগতের কথা বোঝায়। উবা কলকাতাকে ‘বালির দেশ’ (মরুভূমি) বলে, কারণ সেখানে নাকি জঙ্গল, পাখি, প্রজাপতি, বড়ো নদী নেই। প্রকৃতির সঙ্গে না মিশে শহরে বসে জগৎকে কীভাবে জানা যায় — এই প্রশ্ন তুলে উবা ছেলেটিকে ভালোবেসে জঙ্গলেই থেকে যেতে বলে।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- বোতো
- আমাজন নদীর গোলাপি ডলফিন, যাকে স্থানীয় মানুষ রক্ষাকর্তা মনে করে।
- স্তব্ধতা
- নীরবতা।
- সুরেলা
- সুরে ভরা, মধুর।
- ব্যাকুল
- অস্থির, আকুল।
- প্রাসাদ
- বড়ো অট্টালিকা, রাজবাড়ি।
- কাঠকুটো
- আঁকার জন্য কাঠকয়লা বা কাঠের টুকরো।
- বালির দেশ
- মরুভূমি।
- পর্যটক
- ভ্রমণকারী।
- আলোকচিত্রী
- ফটোগ্রাফার।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কাহিনিটি কোন জায়গার?
সমাধান: আমাজন।
প্রশ্ন 2. ‘বোতো’ কী?
সমাধান: আমাজন নদীর গোলাপি ডলফিন।
প্রশ্ন 3. উবা কী দিয়ে ছবি আঁকত?
সমাধান: কাঠকুটো দিয়ে।
প্রশ্ন 4. উবা কলকাতাকে কী বলেছিল?
সমাধান: বালির দেশ (মরুভূমি)।
প্রশ্ন 5. ছেলেটি মনে মনে বোতোর কাছে কী চেয়েছিল?
সমাধান: ঘরে ফেরার উপায়।
যে ভুলগুলো এড়াব
- ‘বোতো’-কে কোনো রাক্ষস বা শত্রু ভাবা — আসলে এটি একটি ডলফিন, যাকে রক্ষাকর্তা মনে করা হয়।
- ‘বালির দেশ’ কথাটির আসল অর্থ (মরুভূমি) ভুলে যাওয়া।
আমাজনের জঙ্গলে — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘আমাজনের জঙ্গলে’ কার লেখা?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কাহিনিটি কার লেখা?
অমরেন্দ্র চক্রবর্তী।
‘বোতো’ কী?
আমাজন নদীর গোলাপি ডলফিন।
উবা কলকাতাকে কী বলেছিল?
বালির দেশ।
বড়ো প্রশ্ন
‘বোতো’ সম্পর্কে আমাজন অঞ্চলের বিশ্বাসটি কী, লেখো।
আমাজন অঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে, বোতো আমাজনের রক্ষাকর্তা-দেবতা; জলের নিচে রঙিন পাথরের তার বিরাট প্রাসাদ আছে। বোতোর দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের লক্ষণ, আর নৌকো-উৎসবের রাতে দেখা পাওয়া আরও শুভ। তাই বোতো দেখা গেলে সকলে গান-বাজনা থামিয়ে নিঃশব্দে তার কাছে ভিড় করে।
উবা ছেলেটিকে জঙ্গলে থেকে যেতে বলেছিল কেন?
উবা ভাবত, প্রকৃতির গাছপালা, ফুল, পাখি, প্রজাপতি, ঋতুবদল — এসব না দেখে শহরে বসে জগৎকে সত্যিই জানা যায় না। কলকাতায় এসব নেই বলে সে কলকাতাকে ‘বালির দেশ’ বলেছিল। তাই ছেলেটিকে ভালোবেসে সে জঙ্গলের প্রকৃতির কাছেই থেকে যেতে বলেছিল।
একটু ভেবে
ভাষা না জেনেও উবা আর ছেলেটি কীভাবে মনের ভাব বিনিময় করত? এ থেকে কী বোঝা যায়?
তারা কাঠকুটো দিয়ে মাটিতে ছবি এঁকে নিজেদের জগতের কথা বোঝাত। এ থেকে বোঝা যায়, ভাষা আলাদা হলেও মন দিয়ে চেষ্টা করলে মানুষ ছবি, ইশারা ও ভালোবাসা দিয়ে একে অপরের কাছে পৌঁছোতে পারে।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- লেখক: অমরেন্দ্র চক্রবর্তী (জন্ম ১৯৪১)।
- আমাজনের গোলাপি ডলফিন ‘বোতো’-কে রক্ষাকর্তা মনে করা হয়।
- মূলভাব: প্রকৃতি, বন্ধুত্ব ও ঘরে ফেরার টান।
মনে রাখার কথা
- প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর যোগ।
- ভাষা ছাড়িয়েও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
প্রশ্নোত্তর
ছেলেটির আমাজনের বন্ধুর নাম কী?
উবা।