আমি সাগর পাড়ি দেবো
কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি সাগর পাড়ি দেবো’ কবিতায় এক সাহসী শিশু সওদাগর হয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার ময়ূরপঙ্খি বজরা লাল বাওটা তুলে সাত সাগরে ভাসবে; হাঙর-কুমির-তিমি বা জলদস্যুকে সে ভয় পায় না। সে দেশে দেশে বিভেদের দেয়াল ভেঙে সবাইকে এক করতে চায়, আর সাগরের রতন-মানিক এনে দুঃখিনী মাকে রাজরানি ও নিজেকে রাজার কুমার করতে চায়। কবিতাটি সাহস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিশ্বমৈত্রী ও মা-দেশের প্রতি ভালোবাসার ছবি।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও কবিতার মূলভাব জানা।
- শিশুর সাহস ও স্বপ্ন বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- বিশ্বমৈত্রী ও মা-দেশের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২১ সালে ‘বিজলী’ পত্রিকায় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হলে সারা বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়; তাই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত। তিনি শুধু ইংরেজ শাসন নয়, সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই।
কবিতার মূলভাব
এই কবিতায় এক সাহসী শিশু সওদাগর হয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিশ্বজোড়া বাণিজ্য করার স্বপ্ন দেখে।
সাহস ও বিশ্বমৈত্রী
তার ময়ূরপঙ্খি বজরা লাল বাওটা তুলে সাত সাগরে ভাসবে। হাঙর, কুমির, তিমি বা জলদস্যুকে সে ভয় পায় না। সে দেশে দেশে বিভেদের দেয়াল ভেঙে সব মানুষকে এক করতে চায়, এক দেশের ভালো জিনিস অন্য দেশে পৌঁছে দিতে চায়।
মা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা
সাগরের রতন-মানিক, লাল জহরত ও মুক্তামালা সংগ্রহ করে সে দুঃখিনী মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চায় — মাকে রাজরানি আর নিজেকে রাজার কুমার করতে চায়। কবিতাটি শিশুর সাহস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার ছবি।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- পাড়ি
- যাত্রা, রওনা।
- সওদাগর
- ব্যবসায়ী।
- ময়ূরপঙ্খি
- ময়ূরাকৃতি নৌকাবিশেষ।
- বজরা
- বড়ো ও ধীরগামী নৌকাবিশেষ।
- মরাল
- রাজহাঁস।
- সিন্ধু
- সমুদ্র, সাগর।
- রতন
- রত্ন, দামি পাথর।
- বণিক
- ব্যবসায়ী।
- বিভেদ
- পার্থক্য, ভেদাভেদ।
- একাকার
- মিলেমিশে যাওয়া।
- দুঃখিনী
- যে নারীর দুঃখ ঘোচে না।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কবিতাটি কে লিখেছেন?
সমাধান: কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন 2. নজরুল কোন নামে পরিচিত?
সমাধান: বিদ্রোহী কবি।
প্রশ্ন 3. শিশুটি কী হতে চায়?
সমাধান: সওদাগর।
প্রশ্ন 4. ‘সওদাগর’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: ব্যবসায়ী।
প্রশ্ন 5. সে কাকে রাজরানি করতে চায়?
সমাধান: মাকে।
যে ভুলগুলো এড়াব
- ‘সিন্ধু’ শব্দের অর্থ ভুল করা (সিন্ধু মানে সমুদ্র)।
- ‘বিভেদ’ ও ‘একাকার’ শব্দের অর্থ গুলিয়ে ফেলা।
আমি সাগর পাড়ি দেবো — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘আমি সাগর পাড়ি দেবো’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবিতাটির রচয়িতা কে?
কাজী নজরুল ইসলাম।
নজরুল কোন নামে পরিচিত?
বিদ্রোহী কবি।
‘দুঃখিনী’ শব্দের অর্থ কী?
যে নারীর দুঃখ ঘোচে না।
বড়ো প্রশ্ন
কবিতায় শিশুটির সাহস ও বিশ্বমৈত্রীর পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়, লেখো।
শিশুটি সাত সমুদ্র পাড়ি দিতে চায় এবং হাঙর, কুমির, তিমি বা জলদস্যুকে ভয় পায় না — এতে তার সাহসের পরিচয় মেলে। আবার সে দেশে দেশে বিভেদের দেয়াল ভেঙে সবাইকে এক করতে চায়, এক দেশের ভালো জিনিস অন্য দেশে পৌঁছে দিতে চায় — এতে ফুটে ওঠে তার বিশ্বমৈত্রীর ভাবনা।
শিশুটি সওদাগর হয়ে কী কী করতে চায়?
সে সাত সমুদ্রে ময়ূরপঙ্খি বজরা ভাসিয়ে বিশ্বজোড়া বাণিজ্য করতে চায়, দেশে দেশে বিভেদ ঘুচিয়ে সবাইকে এক করতে চায়, আর সাগরের রতন-মানিক এনে দুঃখিনী মাকে রাজরানি ও নিজেকে রাজার কুমার করতে চায়।
একটু ভেবে
‘দেশে দেশে দেয়াল গাঁথা রাখব নাকো আর’ — এই ভাবনার মধ্যে কবি কোন বড়ো বার্তা দিয়েছেন বলে তোমার মনে হয়?
কবি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষে-মানুষে, দেশে-দেশে ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। সকলে মিলেমিশে এক হয়ে থাকলে, একে অপরের ভালো জিনিস ভাগ করে নিলে পৃথিবী আরও সুন্দর ও সুখী হয় — এটাই বিশ্বমৈত্রীর বার্তা।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬), ‘বিদ্রোহী কবি’।
- শিশুটি সওদাগর হয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দিতে চায়।
- মূলভাব: সাহস, বিশ্বমৈত্রী ও মা-দেশের প্রতি ভালোবাসা।
মনে রাখার কথা
- সাহস ও বড়ো স্বপ্ন দেখা।
- বিভেদ ভুলে সবাইকে এক করা।
প্রশ্নোত্তর
শিশুটি কেন সাগর পাড়ি দিতে চায়?
বিশ্বজোড়া বাণিজ্য করে মায়ের দুঃখ ঘোচাতে ও সবাইকে এক করতে।