StudyMatic
WBBPE · Class 4 · বাংলা · অধ্যায় 13

আলো

লীলা মজুমদারের ‘আলো’ একটি ছোট্ট নাটক। বনের ধারে দাদুর বাড়িতে থাকা শম্ভু দিনের বেলায় দুরন্ত হলেও রাতে অন্ধকার ও বনের ভয়ে কাঁপে। এক ঝড়ের সন্ধ্যায় তার দাদু গাছ থেকে পড়ে পায়ের হাড় ভাঙেন; সুসনি পাহাড়ের চূড়া থেকে হাড়ভাঙা পাতা ও মধু এনে দু-ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ লাগাতে হবে। প্রথমে ভয়ে শম্ভু যেতে চায় না, কিন্তু পিসির কথায় দাদুর ভালোবাসার কথা মনে পড়ায় সে লন্ঠন নিয়ে ঝড়ের রাতে বেরিয়ে পড়ে। পথে প্যাঁচা, গাছ, বনবেড়াল ও বাদুড় তাকে ভয় দেখায়, কিন্তু প্রতিবার লন্ঠনের আলো তুলে ধরতেই ভয় পালিয়ে যায়। শেষে সাহস করে মধু ও পাতা এনে শম্ভু দাদুকে বাঁচায়।

শেখার লক্ষ্য

  • নাট্যকার ও নাটকের কাহিনি জানা।
  • নাটকের চরিত্রগুলিকে চেনা।
  • নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
  • আলো ও সাহস কীভাবে ভয়কে জয় করে তা বোঝা।

মূল ধারণা

নাট্যকার পরিচিতি

লীলা মজুমদার (১৯০৮–২০০৭) প্রখ্যাত লেখক প্রমদারঞ্জন রায়ের কন্যা এবং উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভাইঝি। তিনি ছোটোদের জন্য ‘হলদে পাখির পালক’, ‘চিনে লন্ঠন’, ‘মাকু’, ‘পদিপিসির বর্মিবাক্স’ প্রভৃতি বই লিখেছেন এবং বহুদিন ‘সন্দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার ও আনন্দ পুরস্কার পান।

নাটকের পটভূমি

বনের ধারে দাদুর বাড়িতে থাকে বারো বছরের শম্ভু। দিনের বেলায় সে পাঠশালার সবচেয়ে দুরন্ত ছেলে, কিন্তু রাতে অন্ধকার ও বনের নানা শব্দে ভয়ে একেবারে কাদা হয়ে যায়।

দাদুর বিপদ ও শম্ভুর পরীক্ষা

এক ঝড়ের সন্ধ্যায় দাদু গাছ থেকে পড়ে অচেতন হন, পায়ের হাড় ভাঙে। গুরুমশাই জানান, সুসনি পাহাড়ের চূড়ার হাড়ভাঙা পাতা ও মধু এনে দু-ঘণ্টার মধ্যে লাগাতে হবে। প্রথমে ভয়ে শম্ভু যেতে চায় না, কিন্তু পিসির মুখে দাদুর ভালোবাসার কথা শুনে সে লন্ঠন নিয়ে ঝড়ের রাতে বেরিয়ে পড়ে।

আলোর জয়

পথে প্যাঁচা, গাছ, বনবেড়াল ও বাদুড় গান গেয়ে শম্ভুকে ভয় দেখায়, কিন্তু প্রতিবার সে লন্ঠনের আলো তুলে ধরতেই ভয় পালিয়ে যায় — ভুতুড়ে জিনিসগুলো আসলে সাধারণ বলে ধরা পড়ে। শেষে সাহস করে মধু ও হাড়ভাঙা পাতা এনে শম্ভু দাদুকে বাঁচায়। নাটকের মূল ভাব — আলো ও সাহস অন্ধকার ও ভয়কে জয় করে।

শব্দার্থ ও সংজ্ঞা

লন্ঠন
হারিকেন, আলো দেওয়ার বাতি।
হাড়ভাঙা পাতা
হাড়ের ব্যথা সারানোর একটি গাছ।
মৌচাক
মৌমাছির বাসা।
ঝুরি
বটগাছের ঝুলন্ত শিকড়।
অজগর
বড়ো সাপ।
পিসি
বাবার বোন।
গুরুমশাই
পাঠশালার শিক্ষক।
অসাড়
অচেতন, সাড়াহীন।
দুরন্ত
ডানপিটে, চঞ্চল।
যবনিকা পতন
পর্দা পড়া; নাটক শেষ।

সমাধানসহ উদাহরণ

প্রশ্ন 1. ‘আলো’ নাটকটি কার লেখা?

সমাধান: লীলা মজুমদার।

প্রশ্ন 2. শম্ভু কীসের ভয় পেত?

সমাধান: অন্ধকার ও বনের ভয়।

প্রশ্ন 3. দাদুর কী হয়েছিল?

সমাধান: গাছ থেকে পড়ে পায়ের হাড় ভেঙেছিল।

প্রশ্ন 4. ওষুধ আনতে শম্ভু কোথায় গিয়েছিল?

সমাধান: সুসনি পাহাড়ের চূড়ায়।

প্রশ্ন 5. শম্ভু ভয় তাড়াত কী দিয়ে?

সমাধান: লন্ঠনের আলো দিয়ে।

যে ভুলগুলো এড়াব

  • নাটকের ভয় দেখানো প্রাণীগুলো (প্যাঁচা, বাদুড়, বনবেড়াল) সত্যিকারের ভূত নয় — আলোতেই তারা পালায়, এটা ভুলে যাওয়া।
  • শম্ভুর দিন ও রাতের আচরণের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলা।

আলো — কুইজ

10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।

Question 1 of 10Score 0

‘আলো’ নাটকটি কে লিখেছেন?

অনুশীলন প্রশ্ন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

নাটকটি কার লেখা?

লীলা মজুমদার।

শম্ভু কীসের ভয় পেত?

অন্ধকার ও বনের ভয়।

শম্ভু কী দিয়ে ভয় তাড়াত?

লন্ঠনের আলো দিয়ে।

বড়ো প্রশ্ন

ভয় কাটিয়ে শম্ভু কীভাবে দাদুকে বাঁচাল, লেখো।

প্রথমে ভয়ে শম্ভু বাইরে যেতে চায়নি। কিন্তু পিসির মুখে দাদুর ভালোবাসার কথা শুনে সে লন্ঠন নিয়ে ঝড়ের রাতে বেরিয়ে পড়ে। পথে প্যাঁচা, গাছ, বনবেড়াল ও বাদুড় ভয় দেখালেও প্রতিবার লন্ঠনের আলো তুলে ধরতেই ভয় পালিয়ে যায়। শেষে সুসনি পাহাড় থেকে হাড়ভাঙা পাতা ও মধু এনে সে দাদুকে বাঁচায়।

নাটকে ‘আলো’ কীসের প্রতীক বলে তোমার মনে হয়?

এখানে ‘আলো’ শুধু লন্ঠনের আলো নয়, সাহস ও সত্যেরও প্রতীক। আলো জ্বালালেই অন্ধকারের ভয়ংকর জিনিসগুলো আসলে সাধারণ বলে ধরা পড়ে। তাই বোঝা যায়, সাহস ও আলো দিয়েই ভয় ও অন্ধকারকে জয় করা যায়।

একটু ভেবে

শম্ভু শেষপর্যন্ত ভয় জয় করতে পারল কেন বলে তোমার মনে হয়?

দাদুর প্রাণ বাঁচানোর তীব্র ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তার ভয়কে ছাপিয়ে যায়। আবার বারবার আলো তুলে ধরে সে বুঝে যায়, ভয়ংকর জিনিসগুলো আসলে কিছুই নয়। ভালোবাসা ও আলো — এই দুইয়ের জোরেই সে ভয় জয় করে।

দ্রুত রিভিশন

রিভিশন নোট

  • নাট্যকার: লীলা মজুমদার (১৯০৮–২০০৭), প্রমদারঞ্জন রায়ের কন্যা।
  • ভীতু শম্ভু আলো ও সাহস দিয়ে ভয় জয় করে দাদুকে বাঁচায়।
  • মূলভাব: আলো ও সাহস অন্ধকার ও ভয়কে জয় করে।

মনে রাখার কথা

  • সাহস ও আলো ভয়কে জয় করে।
  • ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সাহস জোগায়।

প্রশ্নোত্তর

‘আলো’ কোন ধরনের রচনা?

এটি একটি ছোটো নাটক।