বর্ষার প্রার্থনা
জসীমউদ্দীনের ‘বর্ষার প্রার্থনা’ একটি লোকগান, যেখানে ভয়ংকর খরায় তৃষ্ণার্ত মানুষ, পশু-পাখি ও প্রকৃতি বৃষ্টির জন্য আকুল হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে। দুপুরে ধু ধু বালুচর, খরায় জমি ফেটে চৌচির, কুয়ো-খাল-বিল-নদী শুকিয়ে কাঠ; গিরস্থ ও গৃহিণী কাঁদে, জল না পেয়ে পাখি মরে। সবাই মিলে প্রার্থনা করে — ‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে’। গানটি খরার কষ্ট ও বৃষ্টির জন্য সর্বজনীন আকুতির করুণ ছবি।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও গানের মূলভাব জানা।
- খরার কষ্টের ছবি বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- প্রকৃতি ও মানুষের জন্য বৃষ্টির গুরুত্ব অনুভব করা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
জসীমউদ্দীন (১৯০৪–১৯৭৬) বিখ্যাত কবি, গীতিকার ও লোকসংস্কৃতি গবেষক। গ্রামবাংলার জীবন তাঁর লেখায় ফুটে ওঠে বলে তিনি ‘পল্লীকবি’ নামে খ্যাত। ‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’, ‘গাঙের পার’, ‘পদ্মাপার’, ‘রাখালি গান’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গীতিগ্রন্থ।
গানের পটভূমি
ভয়ংকর খরায় চারদিক শুকিয়ে কাঠ। দুপুরে ধু ধু বালুচর, খরায় আকাশ যেন টুকরো টুকরো, জমি ফেটে চৌচির; অথচ মেঘের কোনো দেখা নেই।
খরার কষ্ট
জল না পেয়ে তৃষ্ণায় মানুষ কাতর; গিরস্থ (চাষি) ও ঘরের গৃহিণী কাঁদে; খাল-বিল-নদী শুকিয়ে গেছে; জলের অভাবে পাখি ও পশু মরে; পায়রা-পায়রি বাসায় বসে কাঁদে। সমস্ত প্রকৃতি যেন জলের জন্য হাহাকার করে।
প্রার্থনা
এই অসহ্য কষ্টে সবাই মিলে আকুল হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে — ‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে’। গানটি খরার কষ্ট ও বৃষ্টির জন্য সর্বজনীন আকুতির এক করুণ ছবি।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- বালুচর
- নদীর বালির চর।
- কলিজা
- বুক, হৃৎপিণ্ড।
- পিয়াস
- তৃষ্ণা।
- কাতর
- কষ্টে অস্থির।
- গিরস্থ
- গৃহস্থ, চাষি।
- পানি
- জল।
- খালা-বিলা
- খাল-বিল।
- পংখী
- পাখি।
- কপোত-কপোতী
- পায়রা ও পায়রি।
- পল্লীকবি
- গ্রামের কবি।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. ‘বর্ষার প্রার্থনা’ কার লেখা?
সমাধান: জসীমউদ্দীন।
প্রশ্ন 2. জসীমউদ্দীন কোন নামে পরিচিত?
সমাধান: পল্লীকবি।
প্রশ্ন 3. গানটি কীসের জন্য প্রার্থনা?
সমাধান: বৃষ্টির (মেঘ-পানি) জন্য।
প্রশ্ন 4. ‘পিয়াস’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: তৃষ্ণা।
প্রশ্ন 5. খরায় কী কী শুকিয়ে গিয়েছিল?
সমাধান: খাল-বিল-নদী।
যে ভুলগুলো এড়াব
- গানটি যে আঞ্চলিক (গ্রামীণ) ভাষায় লেখা, তাই কিছু শব্দের অর্থ ভুল করা — যেমন ‘পানি’ মানে জল।
- ‘পল্লীকবি’ মানে গ্রামের কবি — এটি ভুলে যাওয়া।
বর্ষার প্রার্থনা — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘বর্ষার প্রার্থনা’ গানটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
গানটির রচয়িতা কে?
জসীমউদ্দীন।
জসীমউদ্দীন কোন নামে পরিচিত?
পল্লীকবি।
‘পানি’ শব্দের অর্থ কী?
জল।
বড়ো প্রশ্ন
‘বর্ষার প্রার্থনা’ গানে খরার কষ্টের ছবি কীভাবে ফুটে উঠেছে, লেখো।
গানে দেখা যায় দুপুরে ধু ধু বালুচর, খরায় জমি ফেটে চৌচির, আকাশ যেন টুকরো টুকরো। জল না পেয়ে মানুষ তৃষ্ণায় কাতর, গিরস্থ ও গৃহিণী কাঁদে, খাল-বিল-নদী শুকিয়ে গেছে, পাখি ও পশু মরে, পায়রা-পায়রি বাসায় বসে কাঁদে। এভাবে খরার ভয়ংকর কষ্টের করুণ ছবি ফুটে উঠেছে।
গানে সবাই ঈশ্বরের কাছে কী প্রার্থনা করে এবং কেন?
ভয়ংকর খরায় সবাই আকুল হয়ে ঈশ্বরের কাছে মেঘ, জল ও ছায়া চায় — ‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে’। কারণ বৃষ্টি না হলে মানুষ, পশু-পাখি ও ফসল কেউই বাঁচবে না; বৃষ্টিই তাদের একমাত্র ভরসা।
একটু ভেবে
গানটিতে শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখি ও গাছপালার কষ্টের কথাও বলা হয়েছে কেন বলে তোমার মনে হয়?
কারণ খরা শুধু মানুষের নয়, গোটা প্রকৃতিরই বিপদ। জল ছাড়া মানুষ, পশু, পাখি, গাছ — কেউই বাঁচতে পারে না। সবার কষ্টের কথা বলে কবি বোঝান, প্রকৃতির সব প্রাণই একসূত্রে বাঁধা এবং বৃষ্টি সকলের জন্যই দরকার।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: জসীমউদ্দীন (১৯০৪–১৯৭৬), ‘পল্লীকবি’।
- ভয়ংকর খরায় সবাই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে।
- মূলভাব: খরার কষ্ট ও বৃষ্টির জন্য সর্বজনীন আকুতি।
মনে রাখার কথা
- জল ও বৃষ্টির গুরুত্ব।
- প্রকৃতির সব প্রাণ একসূত্রে বাঁধা।
প্রশ্নোত্তর
গানটি কোন ভাষারীতিতে লেখা?
গ্রামবাংলার আঞ্চলিক (লোক) ভাষায়।