তোত্তো-চানের অ্যাডভেঞ্চার
তেৎসুকো কুরোয়ানাগির ‘তোত্তো-চান’ বই থেকে নেওয়া এই কাহিনিতে তোত্তো-চান তার পোলিও-আক্রান্ত বন্ধু ইয়াসুয়াকি-চানকে গাছে চড়ার নিমন্ত্রণ জানায়। ইয়াসুয়াকির নিজের কোনো গাছ ছিল না বলে তোত্তো-চান অনেক কষ্টে মই ও সিঁড়ি জোগাড় করে, ঘামে ভিজে, প্রাণপণ চেষ্টায় বন্ধুকে নিজের গাছের ডালে তুলে আনে। গাছের উপর বসে দুই বন্ধু আনন্দে গল্প করে — এই প্রথম ইয়াসুয়াকি-চান গাছে চড়ল।
শেখার লক্ষ্য
- কাহিনির লেখিকা ও মূল ঘটনা জানা।
- তোত্তো-চান ও ইয়াসুয়াকি-চানের বন্ধুত্ব বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- সহানুভূতি ও বন্ধুত্বের মূল্য অনুভব করা।
মূল ধারণা
লেখিকা ও বই পরিচিতি
তেৎসুকো কুরোয়ানাগি (জন্ম ১৯৩৩) জাপানের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। নিজের ছোটোবেলার স্কুলজীবনের স্মৃতি নিয়ে তিনি ‘তোত্তো-চান’ বইটি লেখেন; ‘তোত্তো-চান’ মানে অনেকটা ‘ছোট্ট খুকু’। বইটি একজন আদর্শ শিক্ষকের শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলে এবং সারা পৃথিবীতে বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মূল জাপানি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেন ডরোথি ব্রিটন, আর সেই ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন মৌসুমী ভৌমিক।
কাহিনির পটভূমি
তোমোই স্কুলে প্রত্যেক ছেলেমেয়ের নিজের একটা করে গাছ ছিল। ইয়াসুয়াকি-চানের পোলিওর জন্য হাত-পায়ে জোর ছিল না, তাই তার নিজের কোনো গাছ ছিল না। বন্ধুকে আনন্দ দিতে তোত্তো-চান তাকে নিজের গাছে চড়ার নিমন্ত্রণ জানায় — এ কথা সে কাউকে বলেনি।
বন্ধুকে গাছে তোলা
প্রথমে সাধারণ মই দিয়ে চেষ্টা করেও ইয়াসুয়াকিকে ওঠানো যায় না। তখন তোত্তো-চান দারোয়ানের ঘর থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থাকা সিঁড়ি-মই এনে, প্রাণপণে ঠেলে বন্ধুকে গাছের ডালে তুলে আনে। প্রখর রোদে ঘামে ভিজেও সে হাল ছাড়েনি।
কাহিনির বার্তা
সত্যিকারের বন্ধুত্ব মানে বন্ধুর আনন্দের জন্য কষ্ট স্বীকার করা। তোত্তো-চানের ভালোবাসা ও জেদই ইয়াসুয়াকিকে জীবনে প্রথমবার গাছে চড়ার আনন্দ এনে দিল।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- অ্যাডভেঞ্চার
- রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
- বিজ্ঞ
- জ্ঞানী, অভিজ্ঞ।
- হুর্রে
- আনন্দসূচক ধ্বনি।
- আমন্ত্রণ
- আহ্বান, নিমন্ত্রণ।
- স্বাগতম
- সাদর অভিবাদন।
- তোমোই
- তোত্তো-চানের স্কুল।
- কুহনবুৎসু
- তোমোইয়ের উপাসনাস্থল।
- দারোয়ান
- দ্বাররক্ষী, প্রহরী।
- পোলিও
- যে রোগে হাত-পায়ের পেশি দুর্বল হয়।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. ‘তোত্তো-চান’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: ছোট্ট খুকু।
প্রশ্ন 2. বইটির লেখিকা কে?
সমাধান: তেৎসুকো কুরোয়ানাগি।
প্রশ্ন 3. তোত্তো-চান কাকে গাছে চড়ার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল?
সমাধান: ইয়াসুয়াকি-চানকে।
প্রশ্ন 4. ইয়াসুয়াকি-চানের কোন রোগ ছিল?
সমাধান: পোলিও।
প্রশ্ন 5. তোত্তো-চান মই কোথা থেকে এনেছিল?
সমাধান: দারোয়ানের ঘর থেকে।
যে ভুলগুলো এড়াব
- ইয়াসুয়াকি-চানের অসুখের নাম (পোলিও) ভুলে যাওয়া।
- কাহিনিটি যে মূলে জাপানি ভাষায় লেখা একটি অনুবাদ, তা ভুলে যাওয়া।
তোত্তো-চানের অ্যাডভেঞ্চার — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘তোত্তো-চানের অ্যাডভেঞ্চার’ কাহিনির লেখিকা কে?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কাহিনির লেখিকা কে?
তেৎসুকো কুরোয়ানাগি।
‘তোত্তো-চান’ শব্দের অর্থ কী?
ছোট্ট খুকু।
ইয়াসুয়াকি-চানের কোন রোগ ছিল?
পোলিও।
বড়ো প্রশ্ন
তোত্তো-চান কীভাবে ইয়াসুয়াকি-চানকে গাছে তুলেছিল, লেখো।
প্রথমে সাধারণ মই দিয়ে চেষ্টা করেও ইয়াসুয়াকিকে ওঠানো যায়নি। তখন তোত্তো-চান দারোয়ানের ঘর থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থাকা সিঁড়ি-মই এনে, প্রখর রোদে ঘামে ভিজে, প্রাণপণে নিচ থেকে ঠেলে এক ধাপ এক ধাপ করে বন্ধুকে গাছের ডালে তুলে আনে।
এই কাহিনি থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
সত্যিকারের বন্ধু বন্ধুর আনন্দের জন্য কষ্ট স্বীকার করতে পিছপা হয় না। তোত্তো-চানের ভালোবাসা ও অধ্যবসায়ই দুর্বল বন্ধুকে জীবনে প্রথমবার গাছে চড়ার আনন্দ দিয়েছিল।
একটু ভেবে
তোত্তো-চান কাজটা কাউকে না জানিয়ে করেছিল কেন বলে তোমার মনে হয়?
কারণ সে জানত, বড়োরা শুনলে বিপজ্জনক ভেবে বাধা দেবে এবং অনেক ঝামেলা করবে। বন্ধুকে আনন্দ দেওয়ার ইচ্ছেতেই সে চুপচাপ কাজটা করেছিল।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- লেখিকা: তেৎসুকো কুরোয়ানাগি (জন্ম ১৯৩৩); বাংলা অনুবাদ মৌসুমী ভৌমিক।
- তোত্তো-চান পোলিও-আক্রান্ত বন্ধুকে গাছে চড়ায়।
- মূলভাব: বন্ধুত্ব, সহানুভূতি ও সাহস।
মনে রাখার কথা
- বন্ধুর আনন্দের জন্য কষ্ট স্বীকার করা।
- সহানুভূতি ও অধ্যবসায়ের মূল্য।
প্রশ্নোত্তর
তোত্তো-চানের স্কুলের নাম কী?
তোমোই।