বনভোজন
গোলাম মোস্তাফার ‘বনভোজন’ কবিতায় একদল ছোটো ছেলেমেয়ে বৈশাখ মাসের দুপুরে বড়োরা ঘুমিয়ে পড়লে আম-বাগানের তলায় মিলেমিশে মিছিমিছি বনভোজন করে। তারা ধুলো-বালি আর কাদা দিয়ে কোর্মা-পোলাও, ভাত, পিঠে ‘রাঁধে’, মিছিমিছি খেয়ে বলে ‘বেজায় মিঠে!’। শেষে কবি এসে পড়লে দুষ্টু ছেলেমেয়েরা খিলখিলিয়ে হেসে পালিয়ে যায়।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও কবিতার মূলভাব জানা।
- শিশুদের কল্পনাময় খেলার ছবি বোঝা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- শৈশবের সরল আনন্দ অনুভব করা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
গোলাম মোস্তাফা (১৮৮৭–১৯৬৪) অধুনা বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ও আরবি — দুই ভাষাতেই তাঁর সমান দখল ছিল। তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘রক্তরাগ’ (১৯২৪)। ‘হাস্নাহেনা’, ‘সাহারা’, ‘গুলিস্তান’, ‘বুলবুলিস্তান’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই।
কবিতার মূলভাব
বৈশাখ মাসের দুপুরে বড়োরা ঘুমিয়ে পড়লে নুরু, পুষি, আয়ষা, শফি — এই দুষ্টু ছেলেমেয়েরা আম-বাগানের তলায় মিলে মিছিমিছি বনভোজনের আয়োজন করে।
মিছিমিছি রান্না
তারা আমের গুটি, নারিকেলের মালার হাঁড়ি, রঙিন খুরি, ছোট্ট বঁটি ও ছুরি নিয়ে আসে। বিনা আগুনে ধুলো-বালি ও কাদা দিয়ে কোর্মা-পোলাও, ভাত, পিঠে ‘রাঁধে’। নুরু গিন্নি সাজে, আর সবাই এক লাইনে বসে মিছিমিছি খেয়ে বলে ‘বেজায় মিঠে!’।
শেষ দৃশ্য
এমন সময় কবি হঠাৎ এসে পড়লে দুষ্টু ছেলেমেয়েরা সব খিলখিলিয়ে হেসে পালিয়ে যায়। কবিতাটি শিশুদের কল্পনাময় খেলার সরল আনন্দের ছবি।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- বনভোজন
- দল বেঁধে বাড়ির বাইরে গিয়ে রান্না করে খাওয়া; পিকনিক।
- বাগিচা
- ছোটো বাগান।
- চৈত
- চৈত্র মাস।
- খুরি
- মাটির পাত্র।
- বাটে
- পেষাই করে।
- চাখে
- স্বাদগ্রহণ করে।
- মিঠে
- মিষ্টি।
- সখ
- ইচ্ছা।
- বিপুল
- অনেক বড়ো।
- ব্যস্ত
- ব্যাকুল।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কবিতাটি কে লিখেছেন?
সমাধান: গোলাম মোস্তাফা।
প্রশ্ন 2. ‘বাগিচা’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: ছোটো বাগান।
প্রশ্ন 3. ছেলেমেয়েরা বিনা কী দিয়ে রান্না করছিল?
সমাধান: বিনা আগুনে।
প্রশ্ন 4. কে মিছিমিছি গিন্নি সেজেছিল?
সমাধান: নুরু।
প্রশ্ন 5. শেষে কে এসে পড়েছিল?
সমাধান: কবি।
যে ভুলগুলো এড়াব
- ‘মিঠে’ শব্দের অর্থ ভুল করা (মিঠে মানে মিষ্টি)।
- রান্না যে বিনা আগুনে, মিছিমিছি হচ্ছিল তা ভুলে যাওয়া।
বনভোজন — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘বনভোজন’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবিতাটির রচয়িতা কে?
গোলাম মোস্তাফা।
‘মিঠে’ শব্দের অর্থ কী?
মিষ্টি।
কে গিন্নি সেজেছিল?
নুরু।
বড়ো প্রশ্ন
ছেলেমেয়েরা মিছিমিছি বনভোজনে কী কী করেছিল, লেখো।
তারা আমের গুটি, নারিকেলের মালার হাঁড়ি, রঙিন খুরি, বঁটি-ছুরি নিয়ে আসে। বিনা আগুনে ধুলো-বালি ও কাদা দিয়ে কোর্মা-পোলাও, ভাত, পিঠে ‘রাঁধে’। নুরু গিন্নি সাজে, সবাই এক লাইনে বসে মিছিমিছি খেয়ে বলে ‘বেজায় মিঠে!’।
কবিতার শেষে কী ঘটল?
মিছিমিছি ভোজ চলার সময় হঠাৎ কবি এসে পড়েন। কবিকে দেখে দুষ্টু ছেলেমেয়েরা সব খিলখিলিয়ে হেসে পালিয়ে যায়।
একটু ভেবে
‘বিনা আগুনে রান্না’ আর ‘চোখে ধোঁয়া লেগে কাঁদা’ — কথাগুলোতে কী মজা লুকিয়ে আছে?
আসলে কোনো আগুন বা ধোঁয়া ছিল না, পুরোটাই কল্পনার খেলা। তবু ছেলেমেয়েরা সত্যিকারের রান্নার ভান করে ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করার অভিনয়ও করছিল — এতেই খেলার মজা।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: গোলাম মোস্তাফা (১৮৮৭–১৯৬৪)।
- ছেলেমেয়েরা মিছিমিছি বনভোজন করে ধুলো-কাদা দিয়ে।
- মূলভাব: শিশুদের কল্পনাময় খেলার আনন্দ।
মনে রাখার কথা
- শৈশবের সরল কল্পনা ও আনন্দ।
- সামান্য জিনিস দিয়েই খেলার মজা।
প্রশ্নোত্তর
কবিতায় কাদের নাম আছে?
নুরু, পুষি, আয়ষা ও শফি।