সবার আমি ছাত্র
সুনির্মল বসুর ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতায় কবি বলেছেন, সারা পৃথিবীই তাঁর পাঠশালা আর তিনি সবার ছাত্র। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান তাঁকে কিছু না কিছু শেখায় — আকাশ শেখায় উদার হতে, বায়ু শেখায় কর্মী হতে, পাহাড় শেখায় মৌন ও মহান হতে, সূর্য শেখায় আপন তেজে জ্বলতে, নদী শেখায় আপন বেগে চলতে। কবি বিনয়ের সঙ্গে চারপাশের সব কিছুর কাছ থেকে শেখেন।
শেখার লক্ষ্য
- কবি ও কবিতার মূলভাব জানা।
- প্রকৃতির কোন উপাদান কী শেখায় তা বোঝা।
- কবিতার নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার মনোভাব গড়ে তোলা।
মূল ধারণা
কবি পরিচিতি
সুনির্মল বসু (১৯০২–১৯৫৭) বিহারের গিরিডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রধানত ছোটোদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন এবং ছবি আঁকাতেও দক্ষ ছিলেন। ‘ছানাবড়া’, ‘ছন্দের টুংটাং’, ‘বীর শিকারি’ তাঁর কয়েকটি বই। ১৯৫৬ সালে তিনি ‘ভুবনেশ্বরী পদক’ পেয়েছিলেন।
কবিতার মূলভাব
কবি নিজেকে সারা বিশ্বের ছাত্র মনে করেন। তাঁর কাছে গোটা পৃথিবীটাই একটা বড়ো পাঠশালা, যেখানে প্রকৃতির প্রতিটি জিনিস তাঁর শিক্ষক। অহংকার না করে তিনি সবার কাছ থেকে শেখেন বলে নিজেকে ‘সবার ছাত্র’ বলেছেন।
প্রকৃতি যা শেখায়
আকাশ শেখায় উদার হতে; বায়ু শেখায় কর্মী হতে; পাহাড় শেখায় মৌন ও মহান হতে; খোলা মাঠ শেখায় দিলখোলা হতে; সূর্য শেখায় আপন তেজে জ্বলতে; চাঁদ শেখায় মিষ্টি হেসে মধুর কথা বলতে; সাগর শেখায় ইঙ্গিতে; নদী শেখায় আপন বেগে চলতে; মাটি শেখায় সহিষ্ণুতা; ঝরনা জাগায় গান; আর শ্যামবনানী দেয় সরসতা।
কবিতার বার্তা
শেখার কোনো শেষ নেই। চোখ-কান খোলা রাখলে চারপাশের প্রকৃতি ও জগৎ থেকেই অনেক কিছু শেখা যায়। তাই বিনয়ী হয়ে সবার ছাত্র হয়ে থাকাই ভালো।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- কর্মী
- কাজে দক্ষ।
- মৌন
- নীরব।
- দিলখোলা
- উদারমনা।
- মন্ত্রণা
- পরামর্শ।
- ইঙ্গিত
- ইশারা।
- রত্নআকর
- রত্নের খনি, সমুদ্র।
- সহিষ্ণুতা
- ধৈর্য, সহ্যক্ষমতা।
- পাষাণ
- পাথর।
- দীক্ষা
- মন্ত্রগ্রহণ।
- শ্যামবনানী
- সবুজ অরণ্য।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. কবিতাটি কে লিখেছেন?
সমাধান: সুনির্মল বসু।
প্রশ্ন 2. আকাশ কবিকে কী হতে শেখায়?
সমাধান: উদার হতে।
প্রশ্ন 3. কে কবিকে মধুর কথা বলতে শেখায়?
সমাধান: চাঁদ।
প্রশ্ন 4. নদীর কাছ থেকে কবি কী শিক্ষা পান?
সমাধান: আপন বেগে চলতে।
প্রশ্ন 5. ‘সহিষ্ণুতা’ শব্দের অর্থ কী?
সমাধান: ধৈর্য।
যে ভুলগুলো এড়াব
- প্রকৃতির কোন উপাদান কী শেখায় তা গুলিয়ে ফেলা (যেমন আকাশ ও পাহাড়ের শিক্ষা অদলবদল করা)।
- ‘মৌন’ ও ‘মন্ত্রণা’র মতো শব্দের অর্থ ভুল মনে রাখা।
সবার আমি ছাত্র — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবিতাটির রচয়িতা কে?
সুনির্মল বসু।
‘দিলখোলা’ শব্দের অর্থ কী?
উদারমনা।
আকাশ কবিকে কী শেখায়?
উদার হতে।
বড়ো প্রশ্ন
প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান কবিকে কী কী শিক্ষা দেয়, লেখো।
আকাশ শেখায় উদারতা, বায়ু শেখায় কর্মীভাব, পাহাড় শেখায় মৌন মহত্ত্ব, খোলা মাঠ শেখায় দিলখোলা মন, সূর্য শেখায় আপন তেজে জ্বলা, চাঁদ শেখায় মধুর কথা, নদী শেখায় আপন বেগে চলা, মাটি শেখায় সহিষ্ণুতা। এভাবে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই কবিকে কিছু না কিছু শেখায়।
‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র’ — কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
কবি মনে করেন সারা পৃথিবীই তাঁর বিদ্যালয়। চারপাশের প্রতিটি জিনিসের কাছ থেকেই তিনি নতুন কিছু শেখেন, তাই অহংকার না করে নিজেকে সবার ছাত্র বলেছেন।
একটু ভেবে
কবি নিজেকে ‘সবার ছাত্র’ বলেছেন কেন?
কারণ তিনি অহংকার না করে প্রকৃতি ও চারপাশের সব কিছুর কাছ থেকে বিনয়ের সঙ্গে শেখেন। শেখার কোনো শেষ নেই বলেই তিনি নিজেকে সবার ছাত্র মনে করেন।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- কবি: সুনির্মল বসু (১৯০২–১৯৫৭)।
- মূলভাব: প্রকৃতিই সবচেয়ে বড়ো শিক্ষক।
- সারা বিশ্বই কবির পাঠশালা; তিনি সবার ছাত্র।
মনে রাখার কথা
- প্রকৃতির কাছ থেকে বিনয়ের সঙ্গে শেখা।
- জ্ঞান অর্জনের কোনো শেষ নেই।
প্রশ্নোত্তর
কবিতাটি কোন ভাবের?
প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার ভাব।