নরহরি দাস
‘নরহরি দাস’ একটি মজার গল্প। ছোট্ট এক কালো ছাগলছানা বনে গিয়ে অনেক ঘাস খেয়ে ফেলে, পেট ভারী হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরতে না পেরে এক শিয়ালের গর্তে আশ্রয় নেয়। রাতে শিয়াল ফিরে অন্ধকারে তাকে রাক্ষস ভেবে ভয় পায়। বুদ্ধিমান ছাগলছানা নিজেকে ‘নরহরি দাস’ বলে পরিচয় দেয়, যে নাকি এক গ্রাসে পঞ্চাশটা বাঘ খায়। শেষে ভয় পেয়ে শিয়াল ও বাঘ দুজনেই পালায়। গল্পের নীতি — বুদ্ধি যার বল তার।
শেখার লক্ষ্য
- গল্পের লেখক ও কাহিনি জানা।
- গল্পের চরিত্রগুলিকে চেনা।
- নতুন শব্দের অর্থ শেখা।
- ‘বুদ্ধি যার বল তার’ — এই নীতির অর্থ বোঝা।
মূল ধারণা
লেখক পরিচিতি
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩–১৯১৫) বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা লেখক। ‘টুনটুনির বই’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘ছেলেদের রামায়ণ’ ও ‘ছেলেদের মহাভারত’ তাঁর জনপ্রিয় বই। ১৯১৩ সালে তিনি ছোটোদের জন্য ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় তাঁর সুযোগ্য পুত্র।
গল্পের সারসংক্ষেপ
ছোট্ট ছাগলছানা মায়ের বারণ সত্ত্বেও একদিন গর্তের বাইরে বেরিয়ে পড়ে। এক ষাঁড়ের সঙ্গে বনে গিয়ে এত ঘাস খায় যে পেট ভারী হয়ে আর চলতে পারে না। তাই এক শিয়ালের গর্তে ঢুকে পড়ে। রাতে শিয়াল মামা বাঘের বাড়ি নিমন্ত্রণ খেয়ে ফিরে অন্ধকারে গর্তের ভেতরে কিছু একটা দেখে ভয় পায়।
বুদ্ধির খেলা
শিয়াল ‘কে ও?’ বলতেই বুদ্ধিমান ছাগলছানা নিজেকে ‘নরহরি দাস, সিংহের মামা’ বলে পরিচয় দেয় — যে নাকি এক গ্রাসে পঞ্চাশটা বাঘ খায়। ভয়ে শিয়াল ছুটে বাঘের কাছে যায়। রাগী বাঘ দেখতে এলে শিয়াল তাকে নিজের লেজের সঙ্গে বেঁধে নিয়ে আসে। ছাগলছানা আবার চালাকি করে বাঘকে এমন ভয় দেখায় যে বাঘ শিয়ালকে লেজে বেঁধেই ছুটে পালায়।
গল্পের নীতি
শরীরে ছোটো ও দুর্বল হলেও ছাগলছানা শুধু বুদ্ধির জোরে বড়ো বড়ো প্রাণীকে হারিয়ে দিল। তাই গল্পের শিক্ষা — ‘বুদ্ধি যার বল তার’, অর্থাৎ গায়ের জোরের চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বড়ো।
শব্দার্থ ও সংজ্ঞা
- চমৎকার
- সুন্দর।
- রাক্ষস
- দৈত্য।
- গ্রাস
- মুখে তোলা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য।
- আস্পর্ধা
- দম্ভ।
- কড়ি
- এক ধরনের মুদ্রা।
- ক্ষেত
- জমি।
- আল
- জমির ছোটো বাঁধ।
- ঠোক্কর
- ধাক্কা, হোঁচট।
- সারা হলো
- অস্থির হলো।
- সাজা
- শাস্তি।
সমাধানসহ উদাহরণ
প্রশ্ন 1. গল্পটির লেখক কে?
সমাধান: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
প্রশ্ন 2. ছাগলছানা কার গর্তে আশ্রয় নিয়েছিল?
সমাধান: এক শিয়ালের গর্তে।
প্রশ্ন 3. ছাগলছানা নিজেকে কী নাম দিয়েছিল?
সমাধান: নরহরি দাস।
প্রশ্ন 4. অন্ধকারে শিয়াল ছাগলছানাকে কী ভেবেছিল?
সমাধান: রাক্ষস।
প্রশ্ন 5. গল্পের নীতিকথা কী?
সমাধান: বুদ্ধি যার বল তার।
যে ভুলগুলো এড়াব
- ‘নরহরি দাস’ আসলে কোনো মানুষ নয় — এটি ছাগলছানার বানানো নাম, এটা ভুলে যাওয়া।
- শিয়াল ও বাঘের ভূমিকা গুলিয়ে ফেলা।
নরহরি দাস — কুইজ
10টি প্রশ্ন, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে দেখো।
‘নরহরি দাস’ গল্পটি কে লিখেছেন?
অনুশীলন প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
গল্পটির লেখক কে?
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
গল্পের নীতিকথা কী?
বুদ্ধি যার বল তার।
‘আস্পর্ধা’ শব্দের অর্থ কী?
দম্ভ।
বড়ো প্রশ্ন
ছাগলছানা কীভাবে বুদ্ধি দিয়ে বাঘ ও শিয়ালকে হারাল, লেখো।
শিয়ালের গর্তে আটকে পড়ে ছাগলছানা ভয় না পেয়ে নিজেকে ভয়ংকর ‘নরহরি দাস’ বলে পরিচয় দেয়, যে নাকি এক গ্রাসে পঞ্চাশটা বাঘ খায়। তার সাহসী কথা শুনে শিয়াল ভয়ে পালায়, আর বাঘও পরে ভয় পেয়ে শিয়ালকে নিয়ে ছুটে পালায়। এভাবে ছোট্ট ছাগলছানা শুধু বুদ্ধির জোরেই বড়ো প্রাণীদের হারিয়ে দেয়।
গল্পের চারটি প্রাণীর নাম লেখো ও তাদের স্বভাব বলো।
ছাগলছানা — ছোটো কিন্তু খুব বুদ্ধিমান; ষাঁড় — সরল ও সাহায্যকারী; শিয়াল — ভিতু ও সন্দেহপ্রবণ; বাঘ — শক্তিশালী হলেও বুদ্ধির কাছে হার মানে।
একটু ভেবে
‘বুদ্ধি যার বল তার’ — কথাটি এই গল্পে কীভাবে সত্য হলো?
শরীরে ছোটো ও দুর্বল হলেও ছাগলছানা শুধু বুদ্ধি খাটিয়েই বিশাল বাঘকে ভয় পাইয়ে দিল। তাই বোঝা যায়, গায়ের জোরের চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বড়ো।
দ্রুত রিভিশন
রিভিশন নোট
- লেখক: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩–১৯১৫), ‘টুনটুনির বই’-এর লেখক।
- ছোট্ট ছাগলছানা বুদ্ধির জোরে বাঘ-শিয়ালকে হারায়।
- নীতি: বুদ্ধি যার বল তার।
মনে রাখার কথা
- বিপদে মাথা ঠান্ডা রেখে বুদ্ধি খাটানো।
- শক্তির চেয়ে বুদ্ধি বড়ো।
প্রশ্নোত্তর
‘নরহরি দাস’ আসলে কে?
একটি ছোট্ট বুদ্ধিমান ছাগলছানা, যে এই নাম নিয়ে বাঘকে ভয় দেখায়।